×

জাতীয়

কী ঘটেছিল সেদিন

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২০, ০১:০৪ এএম

কী ঘটেছিল সেদিন

ভয়াল ২১ আগস্ট

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। দিনটি ছিল শনিবার। তখন ক্ষমতায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। সমাবেশের পর সারাদেশে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক মিছিলের কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়া হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল ৪টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সাড়ে ৪টা নাগাদ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। প্রধান অতিথি বিকেল ৫টার দিকে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান।

সেই সময় বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপ থেকে নেমে পড়েন শেখ হাসিনা। নিরাপত্তাকর্মীবেষ্টিত অবস্থায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশব্যাপী অব্যাহত বোমা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বক্তব্য চলে ২০ মিনিট ধরে। এরপর বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোচ্ছিলের। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৫টা ২২ মিনিট। মঞ্চট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে লক্ষ্য করে উপুর্যপরি গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। সভামঞ্চ ট্রাকের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ।

[caption id="attachment_157924" align="aligncenter" width="700"] ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য -ফাইল ছবি[/caption]

লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ। নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে শত শত মানুষের গননবিদারী আর্তচিৎকার। বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টারত মুমূর্ষুদের কাতর-আর্তনাদসহ অবর্ণনীয় মর্মান্তিক সেই দৃশ্য।

সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভাগ্যগুণে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও শেখ হাসিনার দুই কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন দেখে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে টার্গেট করা গুলি ভেদ করতে পারেনি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ির কাচ।

হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে। ভয়াল ২১ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নামাজের ইমামতি রেখে পালানো বহিষ্কৃত বিএনপি গ্রেফতার

নামাজের ইমামতি রেখে পালানো বহিষ্কৃত বিএনপি গ্রেফতার

কিশোরীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

কিশোরীকে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

পাবনায় সাত সমকামীসহ ১৬ জনের এইডস শনাক্ত

পাবনায় সাত সমকামীসহ ১৬ জনের এইডস শনাক্ত

পুলিশের অতিরিক্ত এসপিসহ ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের অতিরিক্ত এসপিসহ ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App