দিল্লিকে ঢাকা
ভারতে হাসিনা বক্তব্য দিলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্য যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে কিংবা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার আগামী ৫ আগস্ট ভারতের মাটিতে সম্ভাব্য বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পলাতক শেখ হাসিনা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে কিংবা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে যথাযথভাবে পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট থাকার কথাও জানান।
এ বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখতে পারেন। সেখানে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ভারতে যাওয়ার পর এটি শেখ হাসিনার প্রথম বড় গণমাধ্যমভিত্তিক প্রকাশ্য উপস্থিতি হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এদিকে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনও এক বার্তায় জানায়, বৈঠকে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে দেশটির সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত।
