×

জাতীয়

গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: মাহদী আমিন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: মাহদী আমিন

ছবি : সংগৃহীত

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সে সময় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্রকামী সব শক্তি ‘বাংলাদেশের পক্ষে’ একটি অভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ -এমন একটি নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দুই বছর পর এসে সেই জাতীয় ঐক্যের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মতপার্থক্য, সমালোচনা বা বিতর্ক থাকতে পারে, তবে তা যেন শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখেই হয়। ভিন্নমতকে ধারণ করেই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আজ জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিভিন্ন গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মাহদী আমিন বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, পোশাকশ্রমিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, নারী এবং প্রবাসী- সবাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও সুশাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়, এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিফলন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রংপুরে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের আত্মোৎসর্গসহ বহু ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আত্মত্যাগ গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।

মাহদী আমিন বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন বা শারীরিক কষ্ট নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেটি বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা বিরোধী রাজনীতিতে থাকা সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে একযোগে রাজপথে নেমেছিল বলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। তার ভাষায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা একক দলের নয়; এর প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

তিনি বলেন, জুলাই সবার। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে তা জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, যেমন ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জাতি স্মরণ করে, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও কখনো ভোলা হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের সংগ্রামের শিক্ষা ধারণ করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অতীতে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়েই দেশে আইনের শাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বস্তি থেকে শহরে দুই বাড়ির মালিক

বস্তি থেকে শহরে দুই বাড়ির মালিক

বিয়েতে মাকে আমন্ত্রণ না করায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন সিইও

বিয়েতে মাকে আমন্ত্রণ না করায় কর্মীকে বরখাস্ত করলেন সিইও

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

বিমানবন্দরে নারীর ব্যাগে মিলল মার্কিন গৃহযুদ্ধের কামানের গোলা

বিমানবন্দরে নারীর ব্যাগে মিলল মার্কিন গৃহযুদ্ধের কামানের গোলা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App