ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কবে? যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে দেশের ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত পরিবারগুলোকে সুবিধার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা দিলেও সেগুলো ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং তথ্যগত ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশেরও কম।
সরকার জানিয়েছে, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও আধুনিক পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা সম্ভব হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পর্যায়েও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি থাকবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। কোনো পরিবার দারিদ্র্য থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্তে উন্নীত হলে কিংবা পুনরায় দারিদ্র্যের মধ্যে চলে এলে সেই পরিবর্তনও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে তালিকাভুক্ত হতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বিদ্যমান দুর্বলতা কমানোই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটির শিল্প, সেলাই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি ব্যবহৃত হবে। এতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।
