‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা সেই ডিসি ইকবাল বরখাস্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
‘গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না’-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক আদেশে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আরও পড়ুন: চাকরি গেল বিপ্লব কুমার ও রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।’
ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের সামনে ইকবাল হোসাইন মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। ওই সময়ই তিনি মন্তব্যটি করেন।
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার আদেশে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তিনি ওই বছরের ২৮ আগস্ট অপরাহ্নে সেখানে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
কিন্তু এরপর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডিআইজিসহ ২৩ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিকে সরকারি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা এবং সরকারি আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য হয়।
এ ঘটনায় ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর জন্যও আবেদন করেননি।
পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
আরও পড়ুন: তিন জেলায় নতুন এসপি, পুলিশের বড় রদবদল
পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশনও চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
