সারাদেশে লোডশেডিং
হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তা চাইলো পল্লী বিদ্যুৎ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি ও জনরোষ বাড়ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন (বাপবিএ)।
বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) দেওয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে বাপবিএর দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। এতে জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
আরও পড়ুন: ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পৌর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
বাপবিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে সেবা পান। অর্থাৎ দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত। সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; বরং জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় বিদ্যুৎ চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে থাকলেও সরবরাহ হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে দেশের কিছু এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ মানুষ পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাপবিএ।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, সারা দেশে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কেপিআই স্থাপনায় হামলা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়ে যাবে।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি আরও জানিয়েছেন।
