ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক করার লক্ষ্যেই সম্ভাব্য এই সফর হতে পারে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ভারত ইতোমধ্যে ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে তিনি সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী এবং তাঁর ভারত সফর দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে। সফরের সময়সূচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন, বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি, জ্বালানি ও মানুষের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন শতভাগ বাড়ানোর সুপারিশ
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক বাধা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ সহজ করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ
ভারত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। জুলাইয়ে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা তিনি ব্রিকস সম্মেলনে সরাসরি অংশ নেবেন কি না এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
