প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
‘নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য সচিব কমিটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রয়েছেন উল্লেখ করে মুখ্য সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যে কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
চলতি বছরের জুলাই থেকে পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটি কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো চালু হয়নি। নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
এদিকে পে-স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত যাবেন না তারেক রহমান
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। সংকট মোকাবিলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং আগের সরকারের সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা না রাখাকে দায়ী করেন তিনি। সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে মুখ্য সচিব বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
