শতভাগ জিপিএ-৫ নিয়ে বিতর্ক, নরসিংদীর সেই স্কুলকে শোকজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে প্রতিষ্ঠানটি কোনো নিয়মবহির্ভূত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কি না, তা জানতে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
এ ঘটনায় রোববার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের চাওয়া নথির মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য, নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের তালিকা।
এর আগেও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ৩২০ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ওই বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তিনজন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
চলতি বছরের ফলাফল সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন জানান, বিদ্যালয় থেকে ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮২ জন। তাদের সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিউএস র্যাংকিংয়ে পেছানোর যে কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
অন্য ১০১ জন শিক্ষার্থী কেন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, তারা টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে যারা জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য, তারাই মূলত উত্তীর্ণ হয়। অন্যরা পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ওই অভিভাবক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশংসাও করেন। তার ভাষ্য, দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় শিক্ষকরা ক্লাসের পর অতিরিক্ত পাঠদান, বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেন।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা ও নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
