যেদিন থেকে কার্যকর হবে নতুন পে-স্কেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন পে-স্কেলে বেতন ঠিক কত শতাংশ বাড়বে এবং পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে-স্কেল বাজেট থেকেই শুরু হবে। তবে পুরো বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবম পে-স্কেল তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমানো এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামোর একটি অংশ কার্যকর হতে পারে। বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রথম ধাপ: নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: পরবর্তী অর্থবছরে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ যুক্ত করা হবে।
তৃতীয় ধাপ: তৃতীয় অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা ও বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সমন্বয় করা হবে।
বেতন বাড়তে পারে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
বর্তমানের মতো ২০টি গ্রেড রাখার পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।
কমিশনের হিসাবে, পুরো সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন যে নতুন ২ মুখ, কাল প্রজ্ঞাপন
এই কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী— ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তে পারে ৭৫ শতাংশ। ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে—এমন সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাসে ২ হাজার টাকা বিশেষ ভাতা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন।
সব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নতুন পে-স্কেলের সুফল সরাসরি বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী পাবেন। তবে ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো প্রস্তাব ও সরকারি প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার বা ধাপ নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
