এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু, মানতে হবে যে ৮ শর্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বদলির আবেদন করতে শিক্ষকদের নির্ধারিত ১৪টি নির্দেশনা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাউশির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে বদলির আবেদন শুরু হয়েছে এবং আবেদন করা যাবে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
মাউশি জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বদলির জন্য আগ্রহী শিক্ষককে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা—প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ—বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বদলিকৃত শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ পাবেন না।
যেসব শর্ত মানতে হবে
১. একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন।
২. চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
৩. স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা কর্মস্থলের জেলায়ও বদলির আবেদন করা যাবে। তবে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে।
৪. চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।
৫. বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর অন্তত দুই বছর সেখানে চাকরি করার পর পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে।
৬. আবেদনে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
৭. বদলির আবেদন করলেই বদলি পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না।
৮. কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
মাউশি জানিয়েছে, আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। পরে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।
আবেদন করার আগে শিক্ষকদের নিজেদের তথ্য, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
