সংস্কার কার্যক্রমে ইউএনডিপির সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ দেশের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রমে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে পুরুষ দলের বিপক্ষে খেলল পাকিস্তান নারী দল
বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করতে চান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তারা আনন্দিত। প্রয়োজন হলে এ প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের জন্য ইউএনডিপির কার্যক্রম প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ধস প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরণার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তারা কাজ করছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করতে চায় সরকার। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেই।
বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইউএনডিপি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলেও জানান আবাসিক প্রতিনিধি। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। কোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। এর কার্যকর বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।
প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আইনটি প্রণয়নের আগে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আইনটি সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
বাংলাদেশের প্রকৃত ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সবসময় বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র উঠে আসে না। বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ—এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
