পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এই তিন মাসের বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: পে স্কেলে সুপারিশকৃত বেতন বহাল রেখে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি
এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে সময় কিছুটা পিছিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর আগে বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও প্রায় শেষ। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর অর্থ বিভাগ পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠাবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর শুরু হবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় যাবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগের একটি সূত্র মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী হয়তো কিছুটা সময় হাতে রেখেই এমন ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অগ্রগতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। গেজেট প্রকাশের পর ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে।
আরও পড়ুন: দেশজুড়ে লোডশেডিং নিয়ে বড় সুখবর
এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরে ধাপে ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সুপারিশের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। সম্প্রতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে সমন্বয়ের কাজও অনেকটা এগিয়েছে।
সব প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরপর অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
