পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। বিদ্যমান প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতাগুলো দূর করে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই গেজেট প্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন পে-স্কেলের খসড়া সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে। সে অনুযায়ী জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতনও নতুন কাঠামো অনুযায়ী হিসাব করা হবে। এ সময়ে তৈরি হওয়া বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হতে পারে।
এর আগে, চলিত আগস্টের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর আগে বেতন কাঠামো নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর অর্থ বিভাগ পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পাঠাবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হওয়ার পরই নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় হাতে রেখেছেন। তবে সরকারের বর্তমান কার্যক্রমের গতি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরো পড়ুন: পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন?
সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। গেজেট প্রকাশের পর নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে আগের তিন মাসের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
এদিকে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। সরকারের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সুপারিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন বেতন কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো শেষ হলে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পথ আরও পরিষ্কার হবে।
