সরকারের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে যেসব জেলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সরকারি কার্যক্রমে নজরদারি বাড়াতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট জেলায় সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি ও সমন্বয় করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার জনকল্যাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করবেন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ দেশে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যেই জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের বিশেষ তদারকি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভা ও সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন জেলার দায়িত্বে কে
ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর; ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আব্দুল আউয়াল মিন্টু লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা; খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ; আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার; মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর।
এ ছাড়া মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট; জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রু কক্সবাজার; মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী; শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ; সুলতান আহমেদ টুকু ঢাকা; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি; হাবিবুর রশিদ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর; মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
