মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে ঘিরে যা বলল পাকিস্তান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (এমজেডিএ) নতুন সদস্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে কোনো নতুন দেশকে এই প্রতিরক্ষা জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ তথ্য জানান।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গত সপ্তাহে আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এমজেডিএতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে কি না এবং এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক বা কৌশলগত ভূমিকা রয়েছে কি না।
জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, এমজেডিএ একটি বিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও সম্মিলিত দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর জন্য এটি উন্মুক্ত।
তিনি জানান, কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এমজেডিএর সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দিলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার জন্য এ ধরনের একটি কাঠামোকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিন দেশই নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার অধিকারী।
পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। সৌদি আরবের রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে।
তবে এমজেডিএতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। বাংলাদেশকে ঘিরে সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
