চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় পে-স্কেল, বাস্তবায়ন যেভাবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশমালা এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল দুই অর্থবছরে মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপ সামাল দিতেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে অক্টোবর মাস থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করতে পারেন।
তবে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হতে পারে।
অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন প্রকাশে বিলম্ব হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ ১ জুলাই থেকেই বহাল থাকবে।
পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় যাচাই ও আইনি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পথ উন্মুক্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ বিভাগের একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।
কমিশনের প্রস্তাবে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ ছিল। তবে এ ধরনের বড় পরিসরের বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
পরবর্তীতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে।
দেশের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও বাস্তবায়ন কৌশল বিবেচনায় নিয়ে সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
অর্থাৎ কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন ও ভাতা চার ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আরও ৩৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
তৃতীয় ধাপ: পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই থেকে মূল বেতনের অবশিষ্ট অংশের একটি ধাপ কার্যকর করা হবে।
চতুর্থ ধাপ: একই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অবশিষ্ট অংশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপও এড়ানো যাবে।
