বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে কেন সতর্কবার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা-পদ্মা পানি বণ্টন চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি নবায়নের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পানিসম্পদ, বন্দর ও শিল্প খাতের স্বার্থ যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধিরা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে রাজ্যের পানি ও শিল্প খাতের জন্য গঙ্গার পানির চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়।
পিটিআইকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো, নবায়িত কোনো চুক্তিতে যেন রাজ্যের ন্যায্য প্রয়োজনীয়তাগুলো পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি জানান, ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
আরও পড়ুন: ‘গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বাংলাদেশের চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে’
রাজ্য সরকারের দাবি, হুগলি নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নৌচলাচলে গুরুতর নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের উজান ও ভাটির মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রতিবছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পলি জমার প্রভাব শুধু নদীব্যবস্থার ওপরই পড়ছে না, নৌচলাচল ও বন্দরের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার সময় এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পলি জমার কারণে ওই অঞ্চলে বারবার বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে জাহাজ চলাচলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া এবং আর্সেনিক দূষণের মতো ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজ্যের জন্য গঙ্গার পানি ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। শোধনের পর খাবার পানি সরবরাহ, সেচ এবং নির্দিষ্ট কিছু শিল্পকারখানার চাহিদা পূরণে গঙ্গার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের যেকোনো পানিবণ্টন চুক্তিতে এসব বাড়তি চাহিদার পাশাপাশি পরিবেশগত উদ্বেগগুলোকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।’
বর্তমানে ভারতে গঙ্গার পানি সেচকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানি পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ এবং শিল্প খাতেও এর একটি অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি হলে পরিবেশগত ঝুঁকি, নদীভাঙন এবং ভাটির অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
