পে-স্কেল অনুমোদন, চাপ বাড়বে বেসরকারি খাতে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত মূল বেতন একবারে হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। আর বিভিন্ন ধরনের ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো, সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নতুন বেতন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বাড়ছে ১০০ শতাংশ।
নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং বাড়তি এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে- তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন পে-স্কেলে বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বেতন বাড়ানোর কারণে ‘কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে’।
আরও পড়ুন: কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটে উৎপাদন খাতে স্থবিরতা এবং রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিবিসি বাংলাকে বলেন, নতুন পে-স্কেলের কারণে সরকারের ব্যাংকঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে বেসরকারি খাতের মানুষের ওপরও।
তিনি মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও এর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সরকারি খাতে বেতন-ভাতা বাড়লে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে।
তবে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১২ বছরে তা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো যতটা সম্ভব ভারসাম্যপূর্ণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ালেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে বাড়তি চাপ সামলানো—এই তিনটি বিষয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
