কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে সব অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্য দূর করা হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি উপলক্ষে মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কওমি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী মুফতি আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কওমিকে আলাদা মনে করি না। তাদের অধিকারের পক্ষে আমরা আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে কথা বলে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ অপমান করলেও আমরা কাউকে অপমান করে কথা বলি না, বলব না। বরং আমাকে অপমান করার পরও আমি আত্মতৃপ্তি পাই। কারণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়েও অবুঝ মানুষ নানা রকম কথা বলেছে। কিন্তু আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন, দুনিয়ার কেউ তাকে অসম্মানিত করতে পারে না, পারবে না।’
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের আভাস
তিনি আরও বলেন, ‘তলোয়ারের দাগ একসময় মুছে গেলেও মুখের ভাষার আঘাতের ক্ষত মুছে যায় না। এই দাগ থেকে যায়।’ তবে তিনি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যারা তাকে কষ্ট দেন, তাদের ক্ষমা করে দেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি মানুষকে ক্ষমা করি, ক্ষমা পাওয়ার আশায়।’
সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। জামায়াত আমির তাদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আজকে যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে, আল্লাহ সবাইকে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে শামিল রেখে এ দেশের মানুষের খেদমত করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতে আমাদের একত্রিত করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে কোরআনের বিধান কায়েম হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাকে-আপনাকে নিয়ে, নাকি আমাদের বাদ দিয়ে।’ দুনিয়ায় আল্লাহর দ্বীন কায়েম হয়েছে যুবকদের ঘাড়ে ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশেও যুবসমাজের নেতৃত্বে একদিন আল্লাহর দ্বীন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এ দাওয়াতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীতে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে, যখন আমি দেখলাম বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারে জামায়াতের দুজন নেতা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ২ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। তখন আমি অবাক হলাম এবং ভাবলাম, এখানেই দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়।’
বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার বলেন, ‘৩৬ বছর বিএনপি করে মানুষ হতে পারিনি। কারাগারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পাশে থেকে কোরআন শিখেছি এবং সঠিক পথের দিশা পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিতে থাকাকালীন নেতারা হাতে মদ আর তাস দিয়েছেন, কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতারা হাতে কোরআন তুলে দিয়েছেন। তাই কোরআনের আলোয় আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছি।’
কওমি আলেম মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী বলেন, ‘যখন আমরা কওমি মাদ্রাসায় পড়তাম, তখন থেকেই আমাদের জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের পত্র-পত্রিকা বা একাডেমিক বই ছাড়া অন্য বই পড়তে দেওয়া হতো না। কিন্তু আমি যখন জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে স্টাডি শুরু করি, তখন দেখতে পাই জামায়াতে ইসলামী সঠিক আদর্শের রাজনীতি করছে। তাই আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. এ এস এম খালেকুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ইসলামভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে দুনিয়ায় শান্তি এবং আখেরাতে মুক্তি লাভ করতে চায়। সেই লক্ষ্যে আমরা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই।’
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
