×

জাতীয়

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ আড়াল করতে সরকার চায় না। ভুল নীতির প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ শুধু গ্যাস দিয়ে উৎপাদন করতে হলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।

তবে পুরো গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করলে শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে সরবরাহ ব্যাহত হবে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ আছে। দুটি ইউনিট দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি গত ২১ জুলাই ত্রুটিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী মাসের শুরুতেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব কেন্দ্র থেকে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হলেও বাস্তবে কেন্দ্রগুলো পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট হওয়ায় একটানা চালানো সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় এগুলো পরিচালনা করা যায়।

বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমে থাকা বকেয়া হিসেবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পরিশোধ করা হলে কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

রাত ৮টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নির্দেশনা কার্যকর করতে নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে রুফটপ সোলারকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তারা এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন। উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন তারা। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা হতে পারে।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তারা তিন বছর পর্যন্ত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের বড় অংশ তুলে নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত দেড় দশকে ভুল নীতি গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। একই সময়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায়ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। ফলে অনেক সময় আবহাওয়াজনিত কারণ ছাড়াই দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য না থাকা এবং নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণেও সংকট বেড়েছে বলে জানান তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও কার্যকর উদ্যোগ এখন নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং অতিরিক্ত ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কতদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগস্টে জনগণকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যেন তা না হয়, সে জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অস্বস্তিকর হলেও জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

টানা ৫ দিন বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির আভাস

টানা ৫ দিন বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির আভাস

হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা

হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা

গ্যাস সংকটে বন্ধ ৪০০ পোশাক কারখানা

বিএনপির ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App