বিএনপির ‘বট বাহিনী’ ব্যবহার নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ‘বট বাহিনী’ পরিচালনা করে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এ কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্যও তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া গেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। গত ছয় মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দলটির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের সংখ্যা ৬০টি বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার তুলনায় এই সংখ্যা কম বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকার নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ফ্যাক্টচেকিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অটোমেটেড পদ্ধতিতে ফ্যাক্টচেকিং করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে অচিরেই সংসদকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত একই ধরনের তথ্যের বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রিন্ট মিডিয়ার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ালেও সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। কারণ, বর্তমান কাঠামো মূলত প্রিন্ট মিডিয়াকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চান।
নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে বসুন্ধরা মিডিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এসব অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার সুযোগ পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের আইন সংশোধন করা হবে কি না—প্রতিমন্ত্রীর কাছে সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
