আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, যা জানাল দুদক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও বদলি, সরকারি কেনাকাটা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আরও পড়ুন: ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ প্রকাশ করতে বললেন আসিফ মাহমুদ
দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
যেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
দুদক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়। এর মধ্যে সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি উপায়ে বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ দুদকে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রম ও গঠনপ্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির সত্যতা পেল দুদক
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এপিএসের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ
দুদক সূত্রের দাবি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।
তবে এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান প্রতিবেদন বা অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হলেও এর ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
