মাসের ব্যবধানে আবারও আলোচনায় আইজিপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এক মাসের ব্যবধানে দুটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে এবং সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে, বক্তব্য দুটিই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এক শতাংশেরও কম কর্মকর্তা অসৎ এবং তাদের কেউ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধেও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন আইজিপি। তার ভাষ্য, এমন ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা প্রয়োজন।
আরো পড়ুন: সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ কর্মকর্তারা চিহ্নিত
শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়েও বক্তব্য দেন আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, অতীতেও শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে, তবে বর্তমানে বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, নিখোঁজ শিশুদের ৮৭ শতাংশের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আইজিপি বলেন, একাধিকবার গ্রেপ্তারের পরও আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকরের কারণে মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে রাজধানীতে কিশোর অপরাধ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন আইজিপি।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ নিয়ে মিলনায়তনে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঠিক তখনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ইঙ্গিত করে আইজিপি প্রশ্ন করেন, “স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে?”
আইজিপির এই প্রশ্নের পরক্ষণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাত উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দেন এবং কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বারণ করেন।
আইজিপির ওই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়।
আরো পড়ুন: স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকে লিখেছেন— “বিগত ১৭ বছরের পুলিশের ভূমিকা দেখার পরও বর্তমানে পুলিশের মানসিকতা বদলালো না।” কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, “পদ ধরে রাখার এটি হয়তো নতুন কৌশল।” আবার অনেকের মতে, “যাঁদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের পরিবর্তন, তাঁদেরকেই আজ বের করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে; ক্ষমতার রূপ সত্যিই অদ্ভুত।” অনেকে লিখেছেন, কারো ক্ষমতা চিরস্থায়ী থাকে না। অস্থায়ী ক্ষমতার মোহে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়াই উত্তম। নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
এদিকে, অনেকে পুলিশের ভূমিকা ও আইজিপির বক্তব্যের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ তার মন্তব্যকে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে দেখলেও অন্যরা বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে দেখার পক্ষে মত দেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে আইজিপির দুটি বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যের ভাষা, পেশাদারিত্ব এবং রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে দূরে থাকার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
