সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃগীত
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে- এমন দাবি করে বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনটি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের সুপারিশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব দাবি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জন্য যে চিরস্থায়ী বিধান দিয়েছেন, তাতে বিশ্বাসীদের কাছে প্রস্তাবিত আইনটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দুটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং পরবর্তী দুটি আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল দেওয়া হবে
তিনি বলেন, উইল বা হেবার ক্ষেত্রে যার নামে সম্পত্তি দেওয়া হবে, তাকে সেই সম্পত্তির মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর সম্পত্তি কার্যকরভাবে দেওয়ার বিষয়টি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতাভুক্ত। আর ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কাকে তা করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কতটুকু সম্পত্তি দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দাবি, প্রস্তাবিত আইনে এসব বিষয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ফকিহ নই, মুফতিও নই; আপনাদের মতোই কোরআনের একজন অতি সাধারণ ছাত্র। কোরআন ও হাদিস থেকে আমি যা বুঝেছি, সেটাই এখানে উপস্থাপন করেছি।’
আইনটি মানুষের ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এভাবে আইনটি উপস্থাপন করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত হকদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় পিতা-মাতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: হাজিরা যেভাবে টাকা পাবেন, জানালেন ধর্মমন্ত্রী
ডা. শফিকুর রহমান বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানান। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ দিলে তা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনকেও প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে।
স্থায়ী কমিটি এই সুযোগ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এবং ‘আল্লাহর আইনের খেলাফ’ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
