পে স্কেলের গেজেট নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া আবারও কোনো জটিলতায় আটকে গেছে কি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হলেও দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে সাবেক আমলাদের মতে, এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও সময় লাগতে পারে।
কেন সময় লাগছে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করতে হয়। এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে।
খসড়া প্রস্তুতের পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ভেটিং করানোর নিয়ম রয়েছে। সেখানে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও পরীক্ষা করা হয়।
এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া
বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে এক-দুই দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে রোববার পর্যন্ত সেটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আটকে থাকার মতো নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আগের পে স্কেলে কত সময় লেগেছিল?
সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয় ১৫ ডিসেম্বর। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।
সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়াকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না।
নতুন পে স্কেলে কার কত বেতন বাড়ছে?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে— ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০তম গ্রেডে বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ ও পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
