সচিবদের জরুরি ২৩ নির্দেশনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বাড়াতে সচিবদের ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়
প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তর ও কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি দুই মাস পরপর বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
ডিজিটাল হাজিরা ও পরিচ্ছন্নতা
সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দপ্তর ও কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের হাজিরার তথ্য একটি একক ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
এ ছাড়া সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে। ইউএনও ওই প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার এবং বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন।
তদবির ও দাপ্তরিক কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি
কোনো সরকারি কর্মচারী চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে নিজের পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের তদবিরের বিস্তারিত তথ্য ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
ডি-নথিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব দাপ্তরিক কার্যক্রম গোপনীয়তা বজায় রেখে নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন সরকারি চিঠি ও নথি অযথা সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পদ ও সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ
শূন্য পদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রয়োজনীয় ও বিলুপ্তিযোগ্য পদ না রাখার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সেবাপ্রত্যাশীদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।
সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্যাডারের পদ সৃজন, বিলুপ্তি ও গ্রেড উন্নীতকরণসহ ক্যাডার পদের সঠিক হিসাবসংবলিত বার্ষিক প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
সরকারি জমি ও মামলা নিষ্পত্তি
আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ভূমি ও আইনি বিরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি সরকারি অফিসের বিরুদ্ধে অন্য সরকারি অফিসের মামলা করার প্রবণতা পরিহার করতে বলা হয়েছে। সরকারি জমি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনায় সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অফিস বা সংস্থার অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জমি তাদের নামে গেজেটভুক্ত ও নামজারি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর নিয়ম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর সময় গোপনীয়তা রক্ষা এবং যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রেও রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ১৬ ও ১৯ নম্বর রুল অনুসরণ করতে হবে।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার প্রস্তাব কমপক্ষে চার কার্যদিবস আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।
ক্রয় প্রস্তাবসংবলিত সারসংক্ষেপ তৈরির সময় পিপিআর, ২০২৫-এর তফসিল-৭-এ দেওয়া নমুনা ছক অনুসরণ করতে হবে। অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো ক্রয় বা ভেরিয়েশন প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন বা পাঠানো যাবে না।
মাঠপর্যায়ের কমিটি ও প্রকল্প তদারকি
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজ নিজ প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
