×

জাতীয়

মাদকাসক্তি থেকে ফেরার পথ দীর্ঘ, তবে রিকভারি সম্ভব

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

মাদকাসক্তি থেকে ফেরার পথ দীর্ঘ, তবে রিকভারি সম্ভব

ছবি : সংগৃহীত

মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠা মানে শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করা নয়; বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়া, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং আত্মনির্ভরশীল জীবনে ফেরার একটি চলমান প্রক্রিয়া। চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সহায়তা, কাউন্সেলিং, আফটারকেয়ার, কর্মসংস্থান এবং পুনরায় মাদক গ্রহণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে একজন মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। আর কলঙ্ক ও সামাজিক বর্জন রিকভারির পথকে আরও কঠিন করে তোলে।

‘রিকভারি ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘রিকভারি মাস’ হিসেবে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘রিকাভারি ইজ রিয়েল: রিস্টোরিং এভরি অ্যাসপেক্ট অব লাইফ’। অর্থাৎ, ‘সেরে ওঠা বাস্তব: জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধার।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. এ. মোহিত কামাল বলেন, টেকসই রিকভারির জন্য শুধু চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে পরিবার, আফটারকেয়ার, পিয়ার সাপোর্ট, রিল্যাপ্স প্রিভেনশন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষে একজন ব্যক্তি যদি আবার পুরোনো পরিবেশ, বেকারত্ব, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক কলঙ্কের মধ্যে ফিরে যান, তাহলে পুনরায় মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে অপমানজনক পরিচয়ে না ডেকে একজন অসুস্থ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, “একজন মানুষের বর্তমান সমস্যাই তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। কলঙ্ক নয়, সহমর্মিতাই রিকভারির পথকে সহজ করে।”

৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছেন

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক এবং আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ।

তিনি সাম্প্রতিক জাতীয় গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে অল্প বয়সেই মাদক গ্রহণের প্রবণতা শুরু হচ্ছে। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক সহজলভ্য।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মাদক ব্যবহারকারীদের প্রায় ৬৯ শতাংশ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন নিতে আগ্রহী। ৬২ শতাংশ চান কাউন্সেলিং সেবা। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ১৩ শতাংশ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন।

বক্তারা বলেন, চিকিৎসা নিতে আগ্রহী মানুষের সঙ্গে বাস্তবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পাওয়া মানুষের এই বড় ব্যবধান দেশে মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করে। বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার অপ্রতুলতা এবং মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে ভুল ধারণাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। এটিকে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা জেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট ও কাউন্সেলিং সেবা যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি এবং নারী ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী।

এতে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্সান শিপু, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘আশ্রয়’-এর পরিচালক মো. শামীম খান, সেফ হোম মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক লুৎফর রহমান মানিক এবং ‘উৎস’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী সুমন।

বক্তারা বলেন, মানুষ সেরে উঠতে চায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ এখনো সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তাই মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি সামাজিক পুনঃএকীভূতকরণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে ডিসিদের নির্দেশ

এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে ডিসিদের নির্দেশ

যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

যাচাই-বাছাই ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

মাদকাসক্তি থেকে ফেরার পথ দীর্ঘ, তবে রিকভারি সম্ভব

মাদকাসক্তি থেকে ফেরার পথ দীর্ঘ, তবে রিকভারি সম্ভব

বাড়ল তেলের দাম

বাড়ল তেলের দাম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App