১৯ বছরের অপেক্ষা শেষে কর্মস্থলে ২৪৬ পুলিশ কর্মকর্তা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ছবি ; সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষা, আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে কর্মজীবনে ফিরেছেন ২৪৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা। ২০০৭ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনরায় নিয়োগ ফিরে পাওয়া এসব কর্মকর্তা রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা দেশের বিভিন্ন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।
দীর্ঘ বিরতির পর পুলিশের পোশাক পরে আবারও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় সারদা পুলিশ একাডেমিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে ফেরার আগে নিজেদের অনুভূতির কথা জানান কর্মকর্তারা।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এসআই আব্দুল মালেক, এসআই জাকের হোসেন, এসআই ফারুক হোসেন ও এসআই দীপসহ অনেকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁদের সীমাহীন কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও সামাজিক লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তাঁরা বলেন, একপর্যায়ে চাকরি ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে আবারও পুলিশের পোশাক পরতে পারা এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের সুযোগ পাওয়াকে তাঁরা নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইয়ের পর তাঁরা চাকরিতে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের কঠোর ও আধুনিক প্রশিক্ষণ তাঁদের নতুন করে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করেছে।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের সেবায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও সততার সঙ্গে কাজ করাই এখন তাঁদের লক্ষ্য বলে জানান তাঁরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়া ২৭তম ব্যাচের ১২০ জন সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ব্যাচের ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ চাকরিচ্যুত করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে আইনি লড়াই ও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার পর তাঁরা পুনরায় চাকরি ফিরে পান।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ৮৪ জন সার্জেন্ট এবং ৫ নারীসহ ১৬২ জন সাব-ইন্সপেক্টর ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে বৃহস্পতিবার তাঁরা বিভিন্ন কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
