তিন উপসচিবকে ওএসডি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৯তম বিসিএসে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বুধবার রাতে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক।
তাঁরা তিনজনই ২৯তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সরকারি নথিতে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়ার তথ্য থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস পরীক্ষার সময় তাঁদের কেউই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সময় জমা দেওয়া সনদ ও কোটার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের ১০ জুলাই। ওই গেজেটে প্রশাসন ক্যাডারে ১৮৪ জনের নাম ছিল। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় ১৪টি পদ শূন্য রাখা হয়।
প্রথম গেজেট প্রকাশের প্রায় ১৩ মাস পর ওএসডি হওয়া তিন কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনের নামে গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় আবেদন না করেও প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৯তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করেছে দুদক।
চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি দেওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে বাকি তিন কর্মকর্তার বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁরা পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
