১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পেলেন যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও তাঁদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার পর থেকে অনেক সরকারি কর্মচারীর মোবাইল ফোনে অক্টোবর মাসের বেতন এবং আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থ জমার এসএমএস আসে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অধিকাংশই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন-ভাতার সুবিধা পেয়েছেন।
তবে যেসব কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, তাঁরা সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাননি।
কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার সকাল ১০টা থেকেই তাঁরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন জমার নিশ্চিতকরণ বার্তা পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, পে-ফিক্সেশনের বাকি কাজ শেষ হলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অন্য কর্মচারীরাও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। এতে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংশোধিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও একসঙ্গে পুরো সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ।
এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ জুনে উত্তোলিত বা প্রাপ্য বেতনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সংশোধিত বেতন স্কেলের শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে কার্যকর থাকা হারেই বহাল থাকবে। গেজেটে ঘোষিত সংশোধিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই হিসাবে দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০১৫ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৯৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।
