ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) শ্রমিকদের এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং বিনা কারণে ছাঁটাই বন্ধ করা। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদেও তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) সাভারের আশুলিয়া ও রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
ওই দিন সকাল থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এর আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
এদিকে বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলবে। বিষয়টি শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সড়ক ছাড়তে রাজি হননি।
মহিদুল ইসলাম আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে পুলিশের কাছে মনে হয়েছে।
