×

জাতীয়

শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী!

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী!

ছবি : সংগৃহীত

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডে রিকশা চালাচ্ছেন এক যুবক। আরেকজনের কাঁধে নির্মাণশ্রমিকের সরঞ্জাম। কেউ লেগুনার হেলপার হিসেবে যাত্রী ডাকছেন। দিনের আলোয় তাঁদের দেখে অপরাধী মনে হওয়ার কারণ নেই। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ রাতের আঁধারে জড়িয়ে পড়েন ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে। দিনের পেশাগত পরিচয়ের আড়ালে চলে অপরাধের প্রস্তুতি। কখনো শ্রমিকের হাতুড়ি হয়ে ওঠে হামলার অস্ত্র, আবার কখনো যানবাহনের চালক বা সহকারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয় অপরাধের কাজে।

রাজধানীর অপরাধজগতে এমন এক শ্রেণির অপরাধীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, যাদের স্থায়ী ঠিকানা ও প্রকৃত পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। তারা একেক সময় একেক এলাকায় অবস্থান করে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন, ছদ্মনাম ব্যবহার এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম বদলে ফেলায় তদন্ত জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশের প্রচলিত অপরাধী তালিকায় নাম না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের আগের অপরাধের ইতিহাসও তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়।

অপরাধজগতের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আত্মগোপনে থাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন বস্তি, অস্থায়ী আবাসন ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দাগি আসামিদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি, মেস, নির্মাণাধীন ভবন ও অস্থায়ী আবাসনে এমন ব্যক্তিদের একটি অংশ আশ্রয় নেয়। এসব জায়গায় পরিচয় যাচাইয়ের ঘাটতি থাকলে তারা সহজেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। কেউ দিনমজুর, কেউ পরিবহন শ্রমিক, আবার কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জীবিকার প্রয়োজনে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধে জড়িত একটি অংশ পরিচয় গোপন ও অবস্থান পরিবর্তনের কৌশল নেয়। এতে অপরাধী শনাক্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।

সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনের পরিচয় ও পেশাগত অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন চিত্র পেয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ লেগুনা চালান, কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, দিনের বেলায় স্বাভাবিক পেশায় যুক্ত থাকলেও রাতের বেলায় তাঁদের কেউ কেউ ছিনতাইয়ে অংশ নেন। অপরাধের সময় ও স্থান পরিবর্তন এবং একাধিক এলাকায় বিচরণের কারণে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত ও নজরদারিতে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, এ ধরনের অপরাধীর অনেকেই নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন না। আজ মোহাম্মদপুরে থাকলে পরদিন চলে যান ওয়ারী বা মিরপুরে। কোনো অপরাধে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের প্রকৃত পরিচয়, আগের অবস্থান ও অপরাধের ইতিহাস যাচাই করতে সময় লাগে। বিশেষ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া নাম-ঠিকানা সঠিক না হলে তদন্ত আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ঢাকার অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে পুলিশের বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫ মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ৭০২টি হত্যা মামলা হয়েছে। একই সময়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৮৭১টি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ছিনতাইয়ের অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেন না। অভিযোগের সংখ্যা আরও বেশি হলে মামলার পরিসংখ্যানও বাড়তে পারত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যমতে, রাজধানীতে ১১৭টি পেশাদার অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি চক্রে সদস্যসংখ্যা আনুমানিক ১০ থেকে ২০ জন। সে হিসাবে এসব চক্রে কয়েক হাজার সদস্য থাকতে পারে। তবে তালিকাভুক্ত চক্রের বাইরে থাকা অপরাধীদের সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই।

অন্যদিকে, ডিএমপির একটি তালিকায় ১ হাজার ৩৮৭ জন সক্রিয় ছিনতাইকারীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারী এলাকায় ৩০৮ জন, তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় ২৪০ জন করে এবং মতিঝিল এলাকায় ১৬৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তালিকা ধরে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে এসে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।

তালিকাভুক্ত অপরাধী ও তালিকার বাইরে থাকা অপরাধীদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশের তালিকায় সাধারণত আগে থেকে শনাক্ত, মামলায় অভিযুক্ত বা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের নাম থাকে। কিন্তু নতুন করে অপরাধে জড়ানো, ছদ্মপরিচয় ব্যবহারকারী কিংবা অন্য এলাকা থেকে এসে অপরাধ সংঘটনকারীদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই তালিকায় যুক্ত নাও হতে পারে।

অপরাধীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার এবং অপরাধের পর দ্রুত এলাকা পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা কিংবা পরিবারের দেওয়া তথ্যের অমিল থাকলে প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের বেগ পেতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের অপরাধের তথ্য সামনে আসে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধীরা অনেক সময় অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে বাসা ভাড়া নেয়। কেউ কেউ পরিচিতজনের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে মেস বা বস্তিতে আশ্রয় নেয়। অপরাধ সংঘটনের পর তারা আর সেখানে ফিরে আসে না। ফলে সম্ভাব্য ঠিকানায় গিয়ে অনেক সময় কাউকে পাওয়া যায় না।

মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অপরাধীদের সতর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত ফোন বন্ধ করে দেওয়া, সিম পরিবর্তন কিংবা অন্যের নামে নিবন্ধিত সংযোগ ব্যবহারের ঘটনা তদন্তে সামনে আসে। দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন চালু থাকায় বৈধভাবে সম্পূর্ণ পরিচয়হীন সিম কেনা সহজ নয়। তবে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম, অবৈধ সংযোগ কিংবা পরিচয় অপব্যবহারের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে হয়। অপরাধের পর ফোন বন্ধ করে দেওয়া বা ডিভাইস বদলে ফেললে ডিজিটাল আলামত সংগ্রহও জটিল হয়ে পড়ে।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধী শনাক্ত করতে শুধু মোবাইল ফোনের অবস্থান বা একটি ঠিকানার ওপর নির্ভর করলে হবে না। আঙুলের ছাপ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, আগের মামলা, অপরাধের ধরন, সহযোগীদের পরিচয় এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত মিলিয়ে তদন্ত করতে হয়।

রাজধানীর বস্তি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, মেস ও নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় আসছেন। কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ পরিবহন শ্রমিক, কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আবার কেউ কাজের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরছেন। তাঁদের সবার তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বস্তিবাসীর সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। এর বাইরে কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াত করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তাঁদের সবাইকে ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা যায় না। তবে অস্থায়ী আবাসন ও দ্রুত স্থান পরিবর্তনের কারণে একটি অংশের তথ্য হালনাগাদ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অপরাধীরা এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ভাসমান অপরাধীদের একটি অংশ ধীরে ধীরে কিশোর গ্যাং, মাদককারবারি ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রথমে অস্থায়ী আশ্রয়, পরে স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ অপরাধে যুক্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে বাইরের অপরাধীদের যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে এবং অপরাধের পরিধি বাড়ছে।

ঢাকায় বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেসের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০১৬ সালে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) চালু করে ডিএমপি। পরবর্তী সময়ে নগরজুড়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের পরিচয় এবং বাসস্থানের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধী শনাক্তে এ ডেটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সিআইএমএসে ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আকতার হোসেন জানান, এ ডেটাবেজের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই, অপরাধ তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার কাজ সহজ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেটাবেজে তথ্য নিবন্ধনই যথেষ্ট নয়। কোনো ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে চলে গেলে, নতুন কেউ উঠলে কিংবা মেসের সদস্য পরিবর্তন হলে তথ্য হালনাগাদ না করা হলে ডেটাবেজের কার্যকারিতা কমে যায়। অনেক বাড়িওয়ালা ও মেস পরিচালনাকারী এখনো তথ্য নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন নন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার কেউ কেউ কাগজে-কলমে তথ্য রাখলেও তা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেন না।

ডিএমপির ওয়েবসাইটে এখনো ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম ও সিআইএমএস কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে নিয়মিত তথ্য যাচাই ও হালনাগাদের পাশাপাশি বাড়িওয়ালা, মেস পরিচালনাকারী এবং সংশ্লিষ্ট থানার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, রাজধানীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অভিযান চালালে হবে না। অপরাধীদের গতিবিধি, অপরাধের ধরন, ব্যবহৃত যানবাহন, সহযোগী এবং অর্থের উৎস শনাক্ত করতে হবে। একই ব্যক্তি বা চক্র বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, আঙুলের ছাপ, অপরাধের রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত সমন্বিতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, জামিনে মুক্তির পর তাদের কার্যক্রম এবং পুনরায় অপরাধে জড়ানোর তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাসমান বা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর ঢালাও সন্দেহ চাপিয়ে দিলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন লাখো মানুষ ঢাকায় আসেন এবং কাজের সন্ধানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যান। তাঁদের চলাচলকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বরং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ভাড়াটে অপরাধী ব্যবহারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতায় স্থানীয় অপরাধী এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধী চক্রের অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করা জরুরি।

জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন নতুন মানুষ ঢাকায় আসছেন, বদলাচ্ছে বসতি, বাড়ছে অস্থায়ী আবাসন। এই জনস্রোতের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপদে বসবাস ও কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি পরিচয় গোপন করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও প্রয়োজন। পুলিশের তথ্যভান্ডার, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তঃথানা সমন্বয় আরও শক্তিশালী না হলে অপরাধীরা জনসমুদ্রের ভিড়ে মিশে গিয়ে বারবার অপরাধ করার সুযোগ পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভারতকে নাস্তানাবুদ করা চীনা যুদ্ধবিমান কবে আসছে, জানা গেল সময়

ভারতকে নাস্তানাবুদ করা চীনা যুদ্ধবিমান কবে আসছে, জানা গেল সময়

নভেম্বরেই আসছে ৩ ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস

নভেম্বরেই আসছে ৩ ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস

টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্যের মৃত্যু

টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্যের মৃত্যু

শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী!

শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী!

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App