আইনমন্ত্রী
‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। ভারত তাকে হস্তান্তর করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের আদালতে কোনো আইনি লড়াই করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ভারত সরকারের ব্যাপার। বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা আমাদের হস্তান্তর করলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আইনের আওতায় সোপর্দ করার ব্যবস্থা করব।’
আরও পড়ুন: পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ছাত্রলীগ নেতা ছিনতাই
সরকার বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেও ভারতে তিনি বন্দি নন, বরং রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন—এমন প্রশ্নে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে তিনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এটাই আমাদের কাছে তার পরিচয়। তারা (ভারত) কী বলছে, সেটা বললেই তো হবে না! আমার রাষ্ট্রে প্রকাশ্য আদালতে তার বিচার হয়েছে।’
এর আগে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচার বিভাগে দুর্নীতির ধরন নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতি করেছে।
এ প্রসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই রায়ের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তার মতে, এটি আর্থিক দুর্নীতির ফল নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির পরিণতি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তবে বিচারিক পর্যালোচনার নামে ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগের বিষয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সরকার এমন একটি বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেই ন্যায়বিচার জনগণের কাছে দৃশ্যমান হবে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা বিচারকদের সততা ও নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে বিচারকেরা দায়িত্ব পালন করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা সহজ হয়।
তিনি আরও বলেন, বিচারিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে নির্বাহী ও আইন বিভাগেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।
অতীতে বিচার বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব একধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিচারক ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ নির্বাচিত সরকার বাতিল করায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার।
