সারজিস আলম
কর্মসংস্থান না হলে বেকারদের দ্বারা আরেকটি অভ্যুত্থান হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না হলে ভবিষ্যতে বেকারত্বকে কেন্দ্র করে নতুন গণআন্দোলন বা অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, আপনারাও গণআন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাই তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। যদি তা না হয়, চাকরিবঞ্চিত তরুণদের ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।”
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশার অনেকটাই এখনো পূরণ হয়নি বলে তাদের দল মনে করে।
তিনি জানান, এ কারণেই এনসিপি রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে এসে সারাদেশে মানুষের কাছে যাচ্ছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত এবং তরুণদের প্রত্যাশা শুনে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শুধু ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের প্রতিফলনও মানুষের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় এখনো লোডশেডিং হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের অমিল তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
