×

এনসিপি

ইউপি নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশলে এনসিপি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ এএম

ইউপি নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশলে এনসিপি

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আগামী ২১ জানুয়ারি। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছেন এনসিপির নেতারা।

দলীয় প্রস্তুতির বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়নে কমিটি গঠন এবং দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক সমন্বয় সভাগুলোতে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনি কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দল-সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব ইউনিয়নে কমিটি গঠন ও চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করা সম্ভব না হলে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনসিপি। দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ বলেন, ‘আমরা কোনো জোটের অধীনে নয়, বরং এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব। মানুষ একটি নতুন ধারার পরিবর্তন চায়। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

প্রস্তুতি ও প্রার্থী বাছাই

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ১৯৫ সদস্যের নতুন কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন এবং ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন কমিটি হবে ৫১ সদস্যের এবং ওয়ার্ড কমিটি ৩১ সদস্যের। নেতৃত্ব নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে পরিচিত, জনগ্রহণযোগ্য, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল ও সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।

এ বিষয়ে যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ বলেন, মাত্র দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দলের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ১০০ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও ১০০ জনের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে নতুন দল হিসেবে এনসিপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এনসিপি নেতাদের ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ধাপে ধাপে দলের কাঠামো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক ধাপে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এনসিপি নেতাদের প্রত্যাশা, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রার্থীদের যোগ্যতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তাদের মতে, দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো দল বা প্রতীকের প্রতি আনুগত্যের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে।

সারোয়ার তুষারের দাবি, বিএনপি ও জামায়াত মূলত তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক ভোটের ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে এনসিপি সাংগঠনিক ভোটের পাশাপাশি দোদুল্যমান ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। এ কারণে নির্বাচনে দলটি ভালো অবস্থানে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভা শুরু করেছে এনসিপি। এসব সভায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রংপুর বিভাগের চার জেলা নিয়ে দিনাজপুরে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নাহিদ ইসলামের অংশগ্রহণে মুন্সিগঞ্জ ও ফরিদপুরেও মতবিনিময় সভা করেছে দলটি।

তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যেই এসব সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কয়েকটি জেলা নিয়ে পৃথক ইউনিট গঠন করে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও বাড়াতে চায় দলটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শীতের সবজির দামে স্বস্তি, কমেনি মাছ-মাংসের দাম

শীতের সবজির দামে স্বস্তি, কমেনি মাছ-মাংসের দাম

ইউপি নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশলে এনসিপি

ইউপি নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশলে এনসিপি

ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ভারতকে নাস্তানাবুদ করা চীনা যুদ্ধবিমান কবে আসছে, জানা গেল সময়

ভারতকে নাস্তানাবুদ করা চীনা যুদ্ধবিমান কবে আসছে, জানা গেল সময়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App