×

মতামত

শাহজালালে যাত্রী হয়রানি, সমস্যার শিকড় কোথায়?

Icon

নাজমুল হাসান

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

শাহজালালে যাত্রী হয়রানি, সমস্যার শিকড় কোথায়?

ছবি : সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে লাগেজ সংগ্রহ, ট্রলি পাওয়া, তথ্য জানানো কিংবা বিমানবন্দরের বাইরে বের হওয়া- প্রায় প্রতিটি ধাপেই কোনো না কোনো ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যায়। কখনো দীর্ঘ অপেক্ষা, কখনো লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়, কখনো লাগেজ নিয়ে অভিযোগ, আবার কখনো দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের ভোগান্তির ঘটনাটি সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে- শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার এই সংকটের জন্য দায়ী কে, আর জবাবদিহিই বা কোথায়?

১ অক্টোবর সকালে মদিনা থেকে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছানোর পর অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁদের লাগেজ পাননি। একই সময়ে পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকার অভিযোগ ওঠে। ওমরাহ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের জমজমের পানির কনটেইনার নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরে জানায়, জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই কি সমস্যার সমাধান?

তিন ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরও স্পষ্ট উত্তর নেই

মদিনা থেকে আসা ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁরা লাগেজ পাচ্ছিলেন না। ট্রলির সংকটও ছিল। এমনকি লাগেজ বিলম্বের কারণ সম্পর্কেও যাত্রীদের কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছাচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন যাত্রীর জন্য বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা কতটা অসহায়ত্বের হতে পারে, তা বোঝা যায় ওমরাহফেরত দন্ত চিকিৎসক ও ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের বক্তব্যে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে জানান, সকাল ৯টার কিছু আগে বিমান অবতরণের পর লাগেজ ও ট্রলি পেতে তাঁদের প্রায় দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় দীর্ঘ সারি থাকলেও সেখানে বয়স্ক, নারী ও শিশুদের বসার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও ছিল না।

এটি একজন যাত্রীর অভিজ্ঞতা। কিন্তু যখন একই ধরনের অভিযোগ একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে আসে, তখন সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়।

জমজমের পানি: ছোট ঘটনা, বড় প্রশ্ন

ওমরাহ থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য জমজমের পানি নিছক একটি লাগেজ নয়। এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রত্যাশা জড়িত। সেই পানি যথাসময়ে যাত্রীদের হাতে পৌঁছাতে না পারা তাই স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরে যাত্রীদের জমজমের পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

কিন্তু একটি কনটেইনার কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজর এড়িয়ে যায়- এই প্রশ্নটির উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি বিমানবন্দরে কোনো প্রক্রিয়া একজন কর্মীর ওপর নির্ভর করার কথা নয়। সেখানে একাধিক স্তরে তদারকি, যাচাই ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকার কথা।

যদি একটি কনটেইনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজর এড়িয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে- কোথায় ছিল তদারকি? কোথায় ছিল সমন্বয়? আর ভুলটি ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত কেন কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পারলেন না?

আখতারুজ্জামানের ঘটনা এখন মামলার বিষয়

এই ভোগান্তির মধ্যেই বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীবের করা মামলায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি, মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। মামলার পর ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

৩ অক্টোবর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পুলিশের আবেদন আংশিক গ্রহণ করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের বিষয় এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তা নির্ধারিত হবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করে দাবি করেছে, তিনি যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করছিলেন। দলটির নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন।

অর্থাৎ একই ঘটনার দুটি ভিন্ন বর্ণনা সামনে এসেছে। একটি পক্ষ বলছে, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ গুরুতর; অন্য পক্ষ বলছে, যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এই দুই বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া।

কিন্তু এর মধ্যেই যে প্রশ্নটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেটি হলো- যাত্রীরা কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন?

প্রতিবাদ করার ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অভিযোগের কারণও তেমনি গুরুত্বপূর্ণ

কোনো যাত্রী বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে তারও জবাবদিহি থাকা উচিত। সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আসবে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।

কিন্তু একই সঙ্গে কোনো যাত্রী যদি বাস্তব ভোগান্তির শিকার হয়ে প্রতিবাদ করেন, সেই ভোগান্তির কারণও তদন্ত করা জরুরি।

কারণ একজন যাত্রীর আচরণকে কেন্দ্র করে পুরো ঘটনাকে বিচার করলে মূল সমস্যাটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

এই ঘটনায় তাই দুটি তদন্ত পাশাপাশি হওয়া দরকার ছিল- প্রথমত, বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল এবং কারা আইন ভঙ্গ করেছে; দ্বিতীয়ত, যাত্রীদের কেন এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো এবং সেবাব্যবস্থার কোথায় ব্যর্থতা ছিল।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি প্রথমটির চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কয়েকজন কর্মীকে শাস্তি দিলেই কি সিস্টেম বদলায়?

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এটি জবাবদিহির একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এখানেই যদি তদন্ত শেষ হয়ে যায়, তাহলে সমস্যার গভীরে যাওয়া হবে না।

একটি বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিমান থেকে লাগেজ নামানো, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, বেল্টে পৌঁছানো, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, যাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া- প্রতিটি পর্যায়েই আলাদা দায়িত্ব রয়েছে।

সুতরাং কোনো একটি পর্যায়ে ব্যর্থতা ঘটলে শুধু নিচের স্তরের একজন কর্মীকে দায়ী করে বিষয়টি শেষ করে দিলে ব্যবস্থাপনার দায় অমীমাংসিত থেকে যায়।

কার দায়িত্ব কী ছিল, কে তদারকি করছিলেন, কোথায় সমন্বয় ব্যর্থ হয়েছে এবং কোথায় নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে আসা প্রয়োজন।

সিসিটিভি আছে, তাহলে জবাবদিহি কোথায়?

শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরাও রয়েছে। ফলে কোনো ঘটনা ঘটলে ভিডিও ফুটেজ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন হলো- লাগেজ হারানো, লাগেজের ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিস না পাওয়া, চোরাচালান বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ উঠলে প্রতিটি ঘটনায় কি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হয়?

যদি হয়, তাহলে তদন্তের ফল কী? কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কতজন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন? কতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে? কতটি ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হয়েছে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- ব্যবস্থা নেওয়ার পর একই ধরনের ঘটনা আবার কেন ঘটে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ্যে না এলে যাত্রীদের আস্থা ফিরবে না।

অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ, সমাধান কোথায়?

শাহজালাল বিমানবন্দর নিয়ে মানুষের অভিযোগ শুধু লাগেজ বা ট্রলিতে সীমাবদ্ধ নয়। ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা, তথ্যের ঘাটতি, আচরণ নিয়ে অভিযোগ, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ, টিকিটের সংকট, চোরাচালান, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় হয়রানি কিংবা ঘুষের অভিযোগ -বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

এসব অভিযোগের সবকটিই সত্য- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি অভিযোগের আলাদা তদন্ত প্রয়োজন।

কিন্তু অভিযোগগুলো যদি বছরের পর বছর ঘুরেফিরে আসে, তাহলে অন্তত এটুকু প্রশ্ন করতেই হয়- ব্যবস্থাটির কোথায় দুর্বলতা রয়েছে?

কোনো একটি সরকার, মন্ত্রী বা প্রশাসনের সময়েই শুধু এই সমস্যা তৈরি হয়েছে- এমনটিও বলা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দর পরিচালনা ও সেবার সঙ্গে বহু প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত। তাই সমস্যার সমাধানও কোনো একজন ব্যক্তিকে বদলি বা সাময়িক শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

বিমানবন্দর শুধু একটি স্থাপনা নয়

একটি দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সেই দেশের প্রবেশদ্বার। একজন প্রবাসী বছরের পর বছর বিদেশে শ্রম দিয়ে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করেন, তথ্য না পান কিংবা অসহায় বোধ করেন, তাহলে সেটি শুধু একটি সেবাগত ত্রুটি নয়—এটি রাষ্ট্রীয় সেবার মানের একটি প্রতিচ্ছবি।

একইভাবে বিদেশি যাত্রী, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী কিংবা পর্যটক যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, তখন বিমানবন্দরে তাঁর প্রথম অভিজ্ঞতাই দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে।

তাই বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি দেশের ভাবমূর্তি, অর্থনীতি ও নাগরিক আস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

‘দোষী কে’ নয়, ‘দায় কোথায়’ -সেটিও জানতে হবে

আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত হোক। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হোক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হোক। যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, আইন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা হোক।

একই সঙ্গে বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের লাগেজ বিলম্ব, ট্রলি সংকট এবং জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনাটিও পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

শুধু দুজন কর্মীকে কারণ দর্শানো বা সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেই যেন তদন্ত শেষ না হয়।

প্রশ্ন হওয়া উচিত-

লাগেজ কেন আটকে ছিল? ট্রলি কেন পর্যাপ্ত ছিল না? জমজমের পানির কনটেইনার কেন সময়মতো ব্যবস্থাপনায় আসেনি? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কী তথ্য দিয়েছিলেন? সেই তথ্য সঠিক ছিল কি না? নিরাপত্তা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে সমন্বয় কোথায় ব্যর্থ হয়েছিল? যাত্রীদের কেন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলো? এবং সবচেয়ে বড় কথা- এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা কী?

ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, ব্যর্থতার বিরুদ্ধেও

শাহজালাল বিমানবন্দরের সমস্যার সমাধান করতে হলে কাউকে বলির পাঁঠা বানানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আবার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়িত্বে গাফিলতি করলে তাঁকে শুধু পদ বদল করে দেওয়ার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।

প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ জবাবদিহি কাঠামো।

কোন সংস্থার কোন কর্মকর্তা কোন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন, কোথায় তাঁর জবাবদিহি, কোনো অভিযোগ উঠলে কত সময়ের মধ্যে তদন্ত হবে, তদন্তের ফল কীভাবে জানানো হবে- এসব স্পষ্ট করতে হবে।

লাগেজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। প্রতিটি ব্যাগের গতিপথ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগের নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দোষী প্রমাণিত হলে পরিচয়, পদ বা প্রভাব না দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি যাত্রীর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার আইন ও আদালত করবে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেটিও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

কিন্তু তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন শাহজালালের মূল সমস্যাটি আড়ালে না যায়।

কারণ আজ আখতারুজ্জামান, কাল অন্য কোনো যাত্রী। আজ মদিনার ফ্লাইট, কাল অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। আজ লাগেজ, কাল ট্রলি; আজ জমজমের পানি, কাল অন্য কোনো সেবা।

সমস্যার ধরন বদলালেও যদি ভোগান্তির চরিত্র একই থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটি ব্যক্তির নয়- ব্যবস্থার।

শাহজালালে তাই শুধু এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যথেষ্ট নয় যে ‘সেদিন কে কী বলেছিলেন?’

প্রশ্ন হওয়া উচিত আরও বড়-

কেন একজন যাত্রীকে তিন ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হলো? কেন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ট্রলি পাওয়া গেল না? কেন দায়িত্বশীলদের নজর এড়িয়ে একটি কনটেইনার পড়ে রইল? কেন একই ধরনের অভিযোগ বারবার ফিরে আসে? এবং সর্বশেষ প্রশ্ন- এই ব্যর্থতার দায় নেবে কে?

যাত্রী কোনো অনুগ্রহ চান না। তিনি তাঁর টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেছেন। তিনি চান সময়মতো লাগেজ, নিরাপদ সেবা, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সম্মানজনক আচরণ।

শাহজালাল বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে তাই শুধু অবকাঠামো নয়, দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা, নজরদারি এবং জবাবদিহির সংস্কৃতিও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

একজনের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু তাতে যদি ব্যবস্থাটি না বদলায়, তাহলে পরের দিন আবারও কোনো যাত্রী লাগেজের সামনে দাঁড়িয়ে একই প্রশ্ন করবেন-

‘আমার অপরাধটা কী?’

সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই।

লেখক : মো. নাজমুল হাসান, সাংবাদিক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদার ছবি প্রকাশ করল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদার ছবি প্রকাশ করল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা

কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা

৬টির বেশি দেশ মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী

৬টির বেশি দেশ মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী

শাহজালালে যাত্রী হয়রানি, সমস্যার শিকড় কোথায়?

শাহজালালে যাত্রী হয়রানি, সমস্যার শিকড় কোথায়?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App