শায়খে চরমোনাই
ধর্মকে হাতিয়ার করে সহিংসতা কাম্য নয়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসলামপন্থি দল, আলেম ও মাদ্রাসাকে বিতর্কিত করতে দেশে নতুন করে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য শুধু ফ্যাসিবাদের অবসান নয়, বরং দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানো। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে দেশের অধিকাংশ মানুষ মত দিয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে সহিংসতা বা উগ্রবাদ কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নতুন করে জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ সামনে এনে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
ভারত প্রসঙ্গে শায়খে চরমোনাই দাবি করেন, দেশটির কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি ভারতের যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অবসান। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মাছউদুর রহমান, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, যুবনেতা ইলিয়াস হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নূর এবং মুফতি নিজামুদ্দিন।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে পুরানা পল্টনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।
