ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারত আবারও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘টুলস’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন আয়োজন ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করা ভারত এ আয়োজনের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করেছে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেলেও এখন ভারত তা পারছে না। এ কারণেই তাকে আবারও ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘রক্তপান করা দানবকে’ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, একজন পলাতক আসামি কি আশ্রয়দাতা দেশ থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পেতে পারেন? তার অভিযোগ, ভারত আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে নিয়মিত অডিও বার্তা ও বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতনের দিনেই তাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রিজভীর দাবি, এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সরকারের সম্মতি ছাড়া একজন পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, শেখ হাসিনা আবার বাংলাদেশে ফিরলে দেশে ‘রক্তগঙ্গা’ বয়ে যাবে এবং তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।
জুলাইয়ের চেতনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে কাজ করতে হবে। এ আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি হলে তার ক্ষতি সবারই হবে। পরাজিত শক্তির পুনরুত্থান ঘটলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, ফাহিমা নাসিরনসহ আরও অনেকে।
