আমার সহধর্মিণী জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমরে সাথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনের নানা কঠিন সময়ে স্ত্রীর সাহস, ত্যাগ ও সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে পারিবারিক জীবন এবং রাজনীতিতে স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি। আমি খুব ভাগ্যবান যে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। তিনি আমার জীবনসঙ্গী হতে পেরেছেন।’
আরও পড়ুন: কাল পদত্যাগ করতে পারেন মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল জানান, বিয়ের পর কর্মজীবনে বদলি ও পদায়নের মধ্য দিয়ে তার জীবনে অনিশ্চয়তা শুরু হয়। পরে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই দীর্ঘ অনিশ্চিত সময়ে স্ত্রীকে পাশে পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাহাত আরা বেগম দীর্ঘদিন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। চাকরির পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাকে। মেয়েদের হলিক্রস স্কুলে পড়ানোর সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
মির্জা ফখরুল জানান, ‘তিনি নিজে চাকরি করেছেন, দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার চেষ্টাতেই আমার মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। হলিক্রসে পড়াশোনা করেছে এবং কষ্ট করেছেন।’ তিনি জানান, একসময় স্ত্রী ও মেয়েদের টেম্পোতে করে যাতায়াত করতে হতো। পরে তার স্ত্রীর বেতন কিছুটা বাড়ে এবং তিনিও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসেন।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে যা বললেন জামায়াতের ১১ এমপি
রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় সময়েও স্ত্রীর সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিপদের সময় স্ত্রী দৃঢ়ভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি তাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময়ও সাহসের সঙ্গে তার ব্যাগ গুছিয়ে দিয়েছেন।
একটি রাতের পুলিশি অভিযানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওই সময় তার স্ত্রী ভোর হওয়ার আগে দরজা খুলতে রাজি হননি। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ভোরে দরজা খোলেন এবং পুলিশ মির্জা ফখরুলকে নিয়ে যায়।
স্ত্রীর সাহসিকতার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতির কারণে তিনি কখনো তার ওপর বিরক্ত হননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সবসময় পাশে থেকেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্ত্রীর এই সহযোগিতা ও ত্যাগের মূল্য অনেক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
