‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান নজরুল ইসলাম খানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ধরে রেখে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা তাদের ‘কমন শত্রু’, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐক্য বজায় রাখা উচিত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের সংকট ও দুঃসময়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, আর বিএনপি তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই বছরের জানুয়ারিতে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ‘বাকশাল’ নামে একটি দল রেখে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সেই শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাকে সহযোগিতা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি তাতে অংশ নেয়নি। তার ভাষ্য, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয় এবং দলটি সংসদীয় ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করে।
এক-এগারোর সরকারের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকৃত ও ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। তার দাবি, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা হয় এবং পরবর্তী ১৬ বছর দলটি স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়। এর বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরে তার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আন্দোলন চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী আন্দোলনে শহীদ, গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মিলিত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেশি ছিল।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণ আবারও বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় দলটিকে নির্বাচিত করেছে। বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা ক্ষমতা নয়, এটা দায়িত্ব।’
দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, উন্নয়ন ব্যাহত হলে সাধারণ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিরোধী দলগুলোর প্রতি তার আহ্বান, তাদের কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড যেন পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের জন্য সুবিধা তৈরি না করে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যার আওতায় পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়ার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের বিরোধিতা না করে আরও ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
