মালয়েশিয়া
মাসের পর মাস বেতনহীন ১২৬ বাংলাদেশি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার পাহাং অঙ্গরাজ্যের একটি প্লাইউড কারখানায় কর্মরত প্রায় ২৫০ অভিবাসী শ্রমিক টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১২৬ জন বাংলাদেশি। এ ছাড়া মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিকরাও রয়েছেন।
শ্রমিকেরা মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডি. কারখানায় কাজ করেন। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ব্যাংক ঋণ ও কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানাটির উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। চুক্তিতে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও মাত্র ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে তাঁদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এমনকি নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, বার্ষিক ছুটিতে দেশে যাওয়ার সময় প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত জামানত দিতে বলা হয়। মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার কথা বলে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: সৌদিতে আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা বিষয়টি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগের কাছে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা কারখানায় তদন্ত করতে আসেননি বলে দাবি তাঁদের। ফলে কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের একজন মুখপাত্র জানান, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসার জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এর বড় একটি অংশ ব্যাংক ঋণ, জমি বন্ধক রাখা কিংবা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করা হয়েছে। দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় তাঁরা যেমন সংকটে আছেন, দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও তেমনি দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ওই শ্রমিক নেতা আরও অভিযোগ করেন, কোম্পানি শ্রমিকদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে, যা চাকরির চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।
এদিকে বেতন দিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, কিছু সমস্যার কারণে কর্মীদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে বকেয়া বেতনের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই। যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তবে কোম্পানির প্রস্তাবিত পরিশোধ পরিকল্পনা শ্রমিকেরা মেনে নিতে রাজি নন বলে দাবি করেছেন মুখপাত্র। এ কারণে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। শ্রমিকদের আচরণকে ‘আক্রমণাত্মক’ বলেও মন্তব্য করেন কোম্পানির ওই প্রতিনিধি।
কোম্পানির আরও দাবি, শ্রমিকদের আর্থিক দাবির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোম্পানির ওপর চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই শ্রমিকেরা অন্যান্য অভিযোগও অতিরঞ্জিত করছেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
