ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অ্যাডিশনাল এসপিসহ আহত ১৫
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অ্যাডিশনাল এসপিসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এবং পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, হাবিবুর রহমানের সমর্থকরা পৌর শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। পরে শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলগেট অতিক্রম করার সময় জাকারিয়ার সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় প্রকাশ্য গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হাবিবের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় প্রতিপক্ষরা। একইসঙ্গে কার্যালয়ের সামনে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের ৫-৬টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে ইটের আঘাতে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) প্রবণ কুমার ও ঈশ্বরদী থানার এসআই আতাউল ইসলাম আহত হন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের প্রধান সমন্বয়ক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা ঈদের আগের রাতে পৌর শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর এলাকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ, লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এখন, এই মুহূর্তেও কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে যা খুবই দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে জাকারিয়া পিন্টুর মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়াও তার ছোট ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত) মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের সময় ইটের আঘাত তিনি এবং থানার এসআই আতাউল ইসলাম আহত হন।
