×

রাজশাহী

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল, চলনবিলে আধাপাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

Icon

মাজেম আলী মলিন, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল, চলনবিলে আধাপাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের বৃহত্তম বিলাঞ্চল চলনবিলে দেখা দিয়েছে নতুন দুর্ভোগ। মাঠজুড়ে সোনালি হয়ে ওঠা বোরো ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। কয়েক মাসের শ্রম আর স্বপ্ন বাঁচাতে দিন-রাত ছুটছেন কৃষকেরা। কিন্তু হঠাৎ বাড়তে থাকা পানিতে তাদের চোখেমুখে এখন হতাশা আর উৎকণ্ঠার ছাপ। দ্রুত পানি না কমলে ঘরে তোলার আগেই বছরের একমাত্র সম্বল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উজানের ঢল। আত্রাই নদীর বিভিন্ন খাল দিয়ে সেই পানি দ্রুত প্রবেশ করছে চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ধানখেতগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।

কৃষকেরা জানান, আত্রাই নদীর পানি সিংড়ার জোড়মল্লিকা, সারদানগর, হুলহুলিয়া, কতুয়াবাড়ি, রাখালগাছা ও পৌর শ্মশানঘাট এলাকার খাল হয়ে চলনবিলে ঢুকছে। সেই পানি গুরুদাসপুরের বিলহরিবাড়ি, যোগেন্দ্রনগর, বিলশা ও রুহাই বিলেও প্রবেশ করছে। পানি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছেন কৃষকেরা। তবে নদীর পানির চাপ বাড়তে থাকায় যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিংড়া উপজেলায় চাষ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির ধান এখনো মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। অন্যদিকে গুরুদাসপুর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির ধান এখনো কাটাই শুরু হয়নি। এসব ধান ঘরে তুলতে আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাত থেকে আত্রাই নদীর পানি সিংড়ার জোড়মল্লিকা সেতুর নিচ দিয়ে বিলে প্রবেশ করতে শুরু করে। খবর পেয়ে কৃষকেরা রাতেই মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করেন। তবে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সারদানগর-হুলহুলিয়া খাল দিয়েও আত্রাই নদীর পানি প্রবেশ করায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে পানি প্রতিরোধে কাজ করছেন। প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কতুয়াবাড়ি, উত্তর দমদমা ও জোলারবাতা স্লুইসগেট এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে একটি স্লুইসগেটের অংশ আগে থেকেই ভাঙা থাকায় সেই পথ দিয়েও পানি প্রবেশ করছে। ফলে চাষিদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

নাটোর জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “চলনবিল এলাকার অধিকাংশ ধান এখনো কাটা হয়নি। উজানের পানি নদী হয়ে বিলে প্রবেশ করায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হবে পরিবেশ ও জনবান্ধব

ডেপুটি স্পিকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হবে পরিবেশ ও জনবান্ধব

‘ইসলামী ব্যাংক একটি দেশ না, একটি ব্যাংক’

‘ইসলামী ব্যাংক একটি দেশ না, একটি ব্যাংক’

‘আমি সরকারি দলেরও না, বিরোধী দলেরও না’

‘আমি সরকারি দলেরও না, বিরোধী দলেরও না’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App