শহীদুল্লাহ হলে তদন্তকে ঘিরে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থান করা দুই অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২ জুলাই) বিকেলে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে এবং নিজেদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির বৈঠক চলার সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হল প্রশাসন এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং এজিএসকে রক্ষার চেষ্টা করছে ছাত্রশিবির। তার দাবি, তদন্ত চলাকালে শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সদস্যদের ওপর হামলা চালালে তাদের কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌকির হাসান ছাত্রদলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্য কক্ষে প্রবেশ করে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে ‘ছবি তোলার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শিবিরের এক সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়েও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান।
ঘটনার পর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা পদত্যাগ করেছেন- এমন দাবি করেছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল উভয় পক্ষ। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে হলের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসংক্রান্ত কোনো লিখিত নথি হল প্রশাসনের কাছে আসেনি এবং তিনি এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানাননি।
