নাটোরে হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা
কাগজ প্রতিবেদক, নাটোর
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
ফাইল ছবি
নাটোরে আনারুল ইসলাম (৬০) নামে এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ৮টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আনারুল ইসলাম রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার দাশমাড়িয়া গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে এবং নাটোর সদর উপজেলা কাফুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার। হত্যাকান্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, জনসমাগমপূর্ণ বাজার এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসক আনারুল ইসলাম দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর ধরে এই এলাকায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। এলাকার সকলের সাথে তার সোহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্ক ছিল।
আরও পড়ুন: অসুস্থতায় জন্য মিড সেমিস্টার পরীক্ষা না দিলে শিক্ষার্থীকে গুণতে হবে জরিমানা
নিহত আনারুল ইসলামের শ্যালক রাসেল আহমেদ জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে আনারুল ইসলাম চাঁদপুর বাজারে তার হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে রোগী দেখতে যান। রোগী দেখা শেষে রাতে বাড়ীতে ফিরে আসেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি তার চেম্বারেই বেঞ্চের উপর শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি তার চেম্বারে প্রবেশ করে এবং ধারালো ছুড়ি দিয়ে বুকে ও পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আনারুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর আমজাদ খান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং পরে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নাটোর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মইনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার পরে তার শরীর রক্তাক্ত ছিল। পরীক্ষা করার সময় নিহতের শরীরের বুকে, পিঠে ও মাথায় ধারালো ছুরি দিয়ে গুরুতর জখম করার চিহ্নপাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মারা যান। ধারনা করা হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড।
নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উদয় সাহা জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা না গেলেও পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের শরীর পর্যবেক্ষন করে বুকে, পিঠে ও মাথায় ধারালো ছুরি দিয়ে গুরুতর জখম করার চিহৃ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যা কান্ড। মৃতদেহটির ময়না তদন্ত করার জন্য নাটোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।
