তিস্তার ভাঙনে ১২ বার ঘরহারা আবু সুফিয়ান
সেকেন্দার আলী বাবলু, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সংরক্ষণ প্রকল্প চললেও থামছে না তিস্তার ভাঙন। মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটছে রাজারহাটের নদীপাড়ের মানুষের।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শহিদুল ইসলামের (৪০) বসতভিটা তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যায়। আরও ১৬টি পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শত কোটি টাকার তিস্তা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৪০টি ধাপে কাজ চলছে, কিন্তু ধীরগতির কারণে মিলছে না সুফল, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বাড়ি ছিল নদী থেকে ১০ মিটার দূরে। অনেক জিও ব্যাগ ছিল, তার পরেও আমার বাড়ি ভেঙে গেল। আমি অটো চালিয়ে খাই। এমন ভাঙন বারবার হলে আমরা কোথায় যাব, কোথায় থাকব?"
শাহিদুলের চাচা আবু সুফিয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকে নদীভাঙন দেখছি। এখন পর্যন্ত এই নদী আমার বাড়ি বারোবার ভেঙেছে। আমাদের জীবন এভাবেই যাবে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, "পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজের ধীরগতিতে আমরা আজ নিঃস্ব হতে চলেছি।"
"পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভালো করে কাজ না করলে এভাবেই সর্বস্ব হারাবে এই এলাকার মানুষ", এমনটাই মন্তব্য স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও তা যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেই দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, রামহরি এলাকায় আগে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল, তবে তা টেকসই হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ পুনরায় ওই এলাকায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
