জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরে তৈয়বের সঙ্গে ছিলো ছাত্রলীগের নেতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় আবু তৈয়ব হাবিলদারের সঙ্গে ছাত্রলীগের এক নেতাও ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নাহর ছবি ও ফ্রেম ভাঙচুর এবং ছবি ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। এ সময় তার সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুনও ছিলেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের টিপু-সুজন কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী সিএফসি গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী।
জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার প্রচারও করেন আল মামুন। সেখানে তিনি নিজেকে এ ঘটনার ‘সরাসরি যোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরেন।
অপর একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ চিহ্নিত রাজাকার ডাকসু প্রজন্ম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ছবি টাঙ্গিয়ে ছিলো—মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া সবার উপরে ডাকসুর ভিতরে! কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। ইতিহাস কি মুছা যায় এত সহজে!’
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন’ পর্বে প্রদর্শিত ছবিটি ছিল ১৯৪৮ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর দেওয়া ভাষণের। ওই ভাষণে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
সোমবার দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে জিন্নাহর ছবিটি সরিয়ে ফ্রেম ভাঙচুর করেন আবু তৈয়ব। একই সঙ্গে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের একটি ছবিও ভাঙচুর করা হয়। ওই ছবিতে জিন্নাহর পাশে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে দেখা যায়।
আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনে আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি প্রার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নির্বাচনে ১০ ভোট পেয়েছিলেন।
ছবি ভাঙচুরের আগে গণমাধ্যমকে আবু তৈয়ব বলেন, জিন্নাহ ঢাকার কার্জন হলে শিক্ষার্থীদের সামনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এবং বাংলা হবে না—এমন অবস্থান জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার দাবি, সেই জিন্নাহ ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান পেতে পারেন না।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ওই বক্তব্যকে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবির নিচে ইংরেজি ক্যাপশনে জিন্নাহর বক্তব্য সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছিল এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
