স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের ‘তালবাহানা’ ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
তিনি লেখেন, সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি কমিশনার সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সাত ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রথম ধাপের ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইসির ঘোষিত তারিখ চূড়ান্ত নয়। এতে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জনপ্রতিনিধির যোগ্যতায় ডিগ্রি কতটা জরুরি?
সাদিক কায়েম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এতে বোঝা যায় সরকার ইসির ঘোষিত তারিখকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের সুবিধা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি করতেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একটি তারিখ ঘোষণা করানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকার ‘সীমাহীন ব্যর্থতার’ পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জুলুমের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এসব কারণে দলটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের রায়কে ভয় পাচ্ছে।
সাদিক কায়েমের অভিযোগ, এ কারণেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুব খানের পথ অনুসরণ’ বলেও মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশনকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে ইসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের ভাষ্য, অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের মতো বিএনপিও দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ফল কখনোই ভালো হবে না।
