অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২১ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
কার্ডিফের সেই রূপকথার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের আঘাত, পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের উইকেট—মিরপুরে ম্যাচের শুরুতেই যে ধ্বংসযজ্ঞের শুরু হয়েছিল, পরে নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের স্পেলে তা রূপ নেয় মহাকাব্যে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের দল।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ার সেরা ৮৬ রানের ওপর ভর করে ২৮৪ রানের শক্তিশালী পুঁজি পায় বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২ দশমিক ২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর প্রথমে বজ্রপাত এবং পরে তুমুল বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ম্যাচ অফিসিয়ালরা বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের ঐতিহাসিক শতকের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছরের সেই খরা কাটানোর দিনে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন প্রায় ৪ বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন। অন্যদিকে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনে ধস নামান গতিদানব নাহিদ রানা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটাই প্রথম ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। তিনি ভেঙেছেন ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে আব্দুর রাজ্জাকের নেওয়া ৩৬ রানে ৩ উইকেটের রেকর্ড। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে এখন অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডের সেরা বোলিং ফিগার নাহিদের।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ম্যাট শর্ট। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই অভিজ্ঞ পেসার। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজ।
তৃতীয় উইকেটে জশ ইংলিশ ও কুপার কনোলি ৪৯ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ১১তম ওভারে ১৪৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গতির এক গোলার্ধের ডেলিভারিতে অজি অধিনায়ক ইংলিশকে (১৯) কট বিহাইন্ড করেন নাহিদ। এরপর কনোলি (৩৫)-কে বোল্ড করে তার ৪০ রানের জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। একপর্যায়ে কেয়ারি (৪৭) ও ক্যামেরন গ্রিন লড়াইয়ের চেষ্টা করলে নতুন স্পেলে এসে কেয়ারিকে ফেরান নাহিদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। শেষ দিকে গ্রিন এক প্রান্ত ধরে রেখে কেবল পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমিয়েছেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন এই দুই বাঁহাতি। তামিম ৪১ বলে এবং শান্ত ৫৭ বলে নিজেদের অর্ধশতক পূরণ করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তামিম ৪৪ বলে ৫৪ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন। এরপর ম্যাট রেনশর জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস (৭) এবং শান্ত (৬৭)।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক। হৃদয় ৫১ বলে ৩১ রান করে আউট হলেও অন্য প্রান্তে মোসাদ্দেক ছিলেন মারমুখী। ২১ রানে একবার জীবন পেয়ে ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার মাত্র ৪৯ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। ফিফটি ছোঁয়ার পর অ্যাডাম জাম্পাকে রিভার্স সুইপে টানা দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি।
শেষ দিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভির ইসলাম ব্যর্থ হলেও অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ৪৫ রানের এক কার্যকরী জুটি গড়েন মোসাদ্দেক। তাসকিন ২০ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হলেও মোসাদ্দেক ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এলিস ৩টি এবং রেনশ ও স্কট ২টি করে উইকেট নেন।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দল আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে।
